Image

শ্যামনগরের হরিনগরে হামলার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রতিবন্ধী বোনের উপর হামলার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিবেশীকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ তুলে মুন্সিগঞ্জ এলাকাবাসীর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।

 

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেল চারটায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

 

সংবাদ সম্মেলনে মুন্সিগঞ্জ এলাকাবাসীর পক্ষে ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার দোসর ৬নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমিনুর মোল্যা বিগত সরকারের আমলে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের উপর জুলুম, নির্যাতন, চাঁদাবাজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার (আমিনুর মোল্যা) এবং তার পরিবারের অনান্য সদস্যদের নেশায় পরিনত হয়েছে। 

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমিনুর মোল্যা আবারও এলাকায় মানুষের উপর নির্যাতনসহ ঘের লুটপাট মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্থ অব্যহত রেখেছে। এসবের প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি আমিনুর মোল্যা তার নিজের প্রতিবন্ধী বোনকে ধারালো ব্লেড ও অস্ত্র দিয়ে জখম করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে মিথ্যা হামলার ঘটনার নাটক সাজিয়ে প্রশাসনের নিকট মিথ্যা বিবৃতি দিয়া মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের বি.এন.পি প্রয়াত নেতা আবু জাবের মোড়লের পুত্র আলমগীর হোসেন ও ফারুক হোসেনসহ অন্যান্যদের নামে ১৯ আগস্ট শ্যামনগর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যার মা নং-২৭।

 

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমিনুর মোল্যার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা সহ মিথ্যা মামলা হইতে প্রায়ত নেতা আবু জাবের মোড়লের পুত্রদেরসহ সকল আসামীদের অব্যহতি পাইতে পারে তাহার সু-ব্যবস্থা করিবেন। উক্ত আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর মোল্যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতি সহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

 

মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন, আলমগীর হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান, মাসিদুর রহমান, মফিজুর রহমান, বিল্লাল হোসেনসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী বলেন, আলমগীর মোল্যাসহ তার পরিবারের সদস্যদের কাজেই হচ্ছে মতের অমলি হলেই মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা। পূর্বেও এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। সত্যিই যদি এমন ঘটনা ঘটতো তাহলে অন্তত কেউ না কেউ জানতো।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, হামলার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে কতগুলো নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা মামলা থেকে তাদের মুক্তির দাবি জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।