Image

বড়াইগ্রামে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবরোধ ও কলেজ ভাংচুর

অমর ডি কস্তা, নাটোর থেকে: নাটোরের বড়াইগ্রামে এক কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুদ্ধ সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে ও কলেজ গেইট ভাংচুর করে। রবিবার বিকেলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা উপজেলার বনপাড়া পৌর চত্বরে অবস্থান নেয় এবং প্রায় ১ ঘন্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এছাড়াও বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা বনপাড়া সেন্ট যোশেফস স্কুল এন্ড কলেজের গেইট ভাংচুর চালায়।


জানা যায়, সকালে বনপাড়া সেন্ট যোশেফস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলাফলে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় বাড়ি ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গলায় জানালার পর্দা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে শিক্ষার্থী যোশেফস বর্ণ রোজারিও (১৮)। সে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লার বিপ্লব রোজারিও এর ছেলে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠিরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। শিক্ষার্থীদের দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ বাড়তি টাকা আয়ের লক্ষ্যে ইচ্ছে করে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অসঙ্গতিপূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে এই কলেজ থেকে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫০১ জন। এতে পাশ করেছে ১০১ জন, ফেল করেছে ৩৮ জন এবং ফলাফল স্থগিত ৩৬২ জনের। ফলাফল স্থগিত করেছে মূলত আবার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। যা এক ধরণের ব্যবসা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। ইচ্ছে করেই এই রকম ফলাফল প্রকাশ করায় একজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে যা সকল সহপাঠীদের মনে আঘাত করেছে বলেই সহপাঠীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করতে সড়কে নেমেছে। শিক্ষার্থীরা এই ফলাফল জটিলতা নিরসনের জন্য ২৪ ঘন্টা আলমেটাম দেয়।


মহাসড়ক অবরোধ করায় তিন দিকের সড়কে শতাধিক যানবাহন আটকা পরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম লুৎফর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভুমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন চন্দ্র সাহা সহ পুলিশ টীম এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।


এ ব্যাপারে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফাদার ড. শংকর ডমিনিক গমেজ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে ভালো ফলাফল করানোর জন্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল অবলম্বন করা হয়। তার অর্থ এই নয় যে টাকা আয় করা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখার মান অনুযায়ী সার্ভিস ফি নেওয়া হয় না। এখানে ভালো ফলাফল করতে না পারলে এর ব্যর্থতা শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবকদের চেয়ে এই কলেজের শিক্ষকদের উপরই বর্তায়। তাই শিক্ষার্থীদেরকে তাদের শিক্ষকদের কথা অনুযায়ী লেখাপড়া করার আহ্বান জানান তিনি। অপরদিকে কলেজের কোন বিষয় নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা অভিভাবকসহ উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষকে সরাসরি বলার পরামর্শ দেন তিনি।