Image

নীলফামারী-৪ আসনে ধানের শীষের জনসভায় আব্দুল গফুর সরকার- ''বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সৈয়দপুরকে জেলা ঘোষণা করা হবে''

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে : নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেছেন, আগামি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং দেশের উন্নয়নে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য বিনীত আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সৈয়দপুরকে প্রশাসনিক জেলায় রুপান্তরিত করা হবে। একই সাথে রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারীদের মাঝে যে সবসময় উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করে,তা নিরসন করা হবে। বসবাসকারীদের মাঝেই স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।


সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে গণমিছিল শেষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় তিনি আরও বলেন, আমরা ১৭ বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছি। এ লড়াই করতে গিয়ে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছে, গুমের শিকার হয়েছে অসংখ্যজন। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতিত হয়েছি আমরা। তিনি বলেন, তারপরেও আমরা পিছু হটিনি। অবশেষে ছাত্র জনতাসহ বিএনপির গণআন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয়েছে স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগের। তাই ১৭ বছর পর আমরা সকলে ভোটাধিকার ফেরত পেয়েছি। এবারের ভোট হলো মহামূল্যবান। তাই দেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোটসহ সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের সকল নাগরিককে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আগামি নির্বাচনে সম্মানিত ভোটারদের ভোটে যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই তাহলে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শিল্প কারখানা স্থাপনে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য যা যা দরকার সব করা হবে। সৈয়দপুর প্রসঙ্গে গফুর সরকার বলেন, বিসিক শিল্পনগরীকে সম্প্রসারণ করা হবে্, যানজট নিরসনে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এছাড়া সৈয়দপুর স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন করা হবে। ২৫.৭৫ একর নিয়ে রেল পৌরসভা যে দ্বন্ধ রয়েছে তার সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, সৈয়দপুরে ক্যাম্পবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা হলো আবাসন, স্বাস্থ্য ও পয়:প্রণালী ব্যবস্থা। সকলকে সাথে নিয়ে সেসব সমস্যা সমাধান করা হবে। ক্যাম্পগুলোতে গড়ে তোলা হবে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা। এছাড়া সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সকল সমস্যা চিহৃিত করে তা সমাধান করা হবে।


জনসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকারের ধানের শীষকে সমর্থন এবং আগামি নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে সাবেক ছাত্রনেতা জুলাই যোদ্ধা শাকিল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক জুলাই যোদ্ধা বিএনপিতে যোগ দেন। জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, ফয়সাল দিদার দিপু, নির্বাচন থেকে সরে আসা সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও মির্জা শওকত আকবর রওশন মহানামা, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. ওবায়দুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম জনি, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক শওকত হায়াত শাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তাজুল ইসলাম ডালিম, জেলা যুবদলের আহবায়ক তারিক আজিজ, সদস্য সচিব পারভেজ আলম গুড্ডু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরহাদ হোসেন, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিজু বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান দিনার, মহিলা দলের সভাপতি রওনক জাহান রেনু, সাধারন সম্পাদক রুপা হোসেন প্রমুখ।


এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাজী একরামুল হক, জিয়াউল হক জিয়া, আনিছ আনসারী, সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি ও হাজী আওরঙ্গজেব, যুগ্ম সম্পাদক সামশুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ পারভেজ লিটন, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সাইদ, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা সুজাল হক সাজু, জাকির হোসেন মেনন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি জাবেদ খান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রাব্বি সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


এরআগে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বের হয় স্মরণকালের নির্বাচনী গনমিছিল। বিএনপি ছাড়াও অভাবনীয় নারী কর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী সমর্থকদের অংশগ্রহণ গনমিছিলটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মিছিল থেকে ধানের শীষ, ধানের শীষ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর।