Image

সৈয়দপুর জাপা প্রার্থীর অফিসে হামলাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও জাপার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অফিসে হামলা ও মারপিটকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ জাপা প্রার্থীর অফিসে ভোট কিনতে অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করায় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানিয়ে বাধা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন। অপরদিকে জাপা প্রার্থী জামায়াতের বিরুদ্ধে পরিল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে নির্বাচনী অফিসে হামলা করা হয়েছে দাবি করেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) পৃথক পৃথকভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উভয় দলের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ করা হয়।

এদিন দুপুরে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে সৈয়দপুর জামায়াতে ইসলামী আহুত সংবাদ সম্মেলনে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে ভোট কিনতে টাকা বিতরণ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের শহর আমির শরফুদ্দিন খান বলেন, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাতে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া তিলখাজা রোডের জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তিনি জানান, দুপুর থেকেই টাকা বিতরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের ছেলেসহ কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম মোবাইল কোর্ট ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অফিস তল্লাশিতে গড়িমসি করা হয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং টাকা সরিয়ে ফেলা হয়।  এ সময় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাওয়ার্দী বাবুকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকাসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে পরে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, জাপা প্রার্থী নিয়মিতভাবে কালো টাকা বিতরণ করে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থ দিয়ে নিজের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হুমকির মুখে পড়ছে। তারা সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অপসারণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. ওয়াজেদ আলী, এসসিপি সৈয়দপুর শাখার আহ্বায়ক জাবেদ আক্তারি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম মানিক এবং এনসিপির নেতা মঞ্জুর আলম তন্ময়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র প্রতিনিধি সদ্য যোগদান করা সাবেক জাপা নেতা জয়নাল আবেদীন।

এদিকে এদিন বিকেল ৫টায় সৈয়দপুর শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম অভিযোগে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হুমকি ও ‘মব’ সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। তার এক প্রতিপক্ষের পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাঙ্গল প্রতিকের সিদ্দিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বললেও শুরু থেকেই তাঁর নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার নামে চারটি গায়েবি মামলায় আসামি করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়। পরে কমিশনে রিটের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর প্রচারণায় নামতেই শুরু হয় হুমকি, চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়, বিভিন্ন সমাবেশে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়, কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থকদের এলাকা ছাড়ার ভয় দেখানো হয় বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, এসব বাধা উপেক্ষা করে জনগণের ব্যাপক সমর্থনে তাঁর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হলে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের রনচন্ডিতে তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। টাকা বিতরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামায়াত ও এনসিপির উগ্র কর্মীদের সংগঠিত করে নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁর কার্যালয়ের ভেতরে কর্মীরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় অফিসের দেয়াল, গেট, জানালা ও দুটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় তাঁর অন্তত ১০ জন কর্মী মারধরের শিকার হন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে কোনো অবৈধ কিছু না পাওয়ায় ক্লিয়ারেন্স প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের আসন্ন পরাজয়ে ভীত হয়ে এ ধরনের মব জাস্টিসের চর্চা শুরু হয়েছে, যা শান্তিপ্রিয় সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তিনি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তারিকুল আলম তারিক, মাসুদ রানা, ইরফান আলম ইকু, জাতীয় পার্টি সৈয়দপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জিএম কবির মিঠু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর জাপা আলতাব হোসেন, সৈয়দপুর পৌর জাপার সহসভাপতি সামসুউদ্দিন অরুণ, মাসুদ রানা, জাপা প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তারিকুল ইসলাম তারিক, ইরফান আলম ইকুসহ জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।