Image

সৈয়দপুরে টিন কেটে দুই দোকানে দু:সাহসিক চুরি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : সৈয়দপুর সদর ফাঁড়ির মাত্র ২০০ গজ দুরে পৌর সবজি বাজারে ছাদের টিন কেটে একই কায়দায় দুটি গালামালের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই দুই দোকানের মসলা জাতীয় পণ্য, তেল, সাবানসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল চোরেরা চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্থ দুই দোকান মালিক হলেন মরিয়ম স্টোরের মো. জোবায়ের (২৮) ও আজম স্টোর- ২ এর সাহিদ আকবর (৩৮)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারে গালামালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামল করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা দোকান তালাবদ্ধ করে বাড়িতে চলে যান। গতকাল  রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তারা দোকান খুলে দেখতে পান, দোকানের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে দোকানে প্রবেশ করে দোকানের ছাদের টিন কাটা ও সিলিং খোলা। দোকান মালিকরা বলেন, এতে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে রাতের কোন একসময় চোরেরা ছাদের টিন কেটে ও সেলিং খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দুই দোকান থেকে মসলা জাতীয় পণ্য, ভোজ্যতেল, সাবানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

ক্ষতিগ্রস্থ মো. জোবায়েরের মরিয়ম স্টোর নামে দোকান থেকে প্রায় সোয়া লাখ টাকার এবং মো. সাহিদ আকবরের আজম স্টোর -২ নামের দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

এ ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও সেসব পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সৈয়দপুর থানায় অজ্ঞাত নামা চোরদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। 

এদিকে সৈয়দপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র দুইশত গজ দুরে পৌর সবজি বাজারে একই কায়দায় দোকান চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দোকান চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে চুরির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকের ধারণা পেশাদার চোর বা ও মাদকসেবীরাই এ চুরির সাথে জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ ফাঁড়ির দুইশত গজ দুরে দোকান চুরির ঘটিনাটি সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সচেতনমহল অবিলম্বে মাদকসেবী, পেশাদার ও ছিচকে চোরদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। 

কথা হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম রেজার সাথে। তিনি বলেন, চুরির বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সদর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা  নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।