Image

টিআরএম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি

 ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: নদী খনন নয়, টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এমনটি দাবি করা হয়েছে আপারভদ্রা অববাহিকা পানি কমিটি ও বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় খুলনার চুকনগর ট্রেড স্কুল মিলনায়তনে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক সাংবাদিক রুহুল আমীন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৪০ বৎসর যাবৎ আপারভদ্রা অববাহিকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা বিদ্যমান, নরনিয়া স্লুইসগেট এলাকা, বুড়ীভদ্রা ও হরিহর নদীর ৩৩০০০ হেক্টর এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয় আপারভদ্রা নদীর মাধ্যমে। এই নদীর উপর নির্ভরশীল জনসংখ্যার সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষাধিক। পানি নিষ্কাশনের প্রশাসনিক এলাকা যশোর জেলার মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা। আপারভদ্রা অববাহিকার পানি এসে যুক্ত হয় খর্নিয়া ব্রীজের ১ কিলোমিটার উজানে রানাই ত্রিমোহনায়। আপারভদ্রা ও ভবদহ এলাকার হরিনদী রানাই ত্রিমোহনায় এসে এই যুক্ত প্রবাহ তেলিগাতী-ঘ্যাংরাইল নদীর মাধ্যমে বারআড়িয়া হয়ে শিবসা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। নব্যতা হৃাস পাওয়ায় এই নদীগুলো কয়েকবার খনন করা হয়েছে, কিন্তু বছর না ঘুরতেই নদী আবারও পলি দ্বারা ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। এ কারনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতি জনগণ আদৌ সন্তুষ্ট নয়। এমতাবস্থায় জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে চলতি বৎসরের নদী খননের কার্যক্রম সেনাবাহিনীর উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। 

এ বছর আপারভদ্রা নদী ১৮.৫ কিমি. এবং হরিহর নদী৩৫ কিমি. খনন করা হবে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে রানাই ত্রিমোহনায় কাশিমপুরে আপারভদ্রা নদীর উপর ক্রসবাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে অববাহিকা এলাকায় ব্যাপকভাবে বোরো চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে বলে সরেজমিন পরিদশনে দেখা গেছে। আংশিক জলাদ্ধতার এবছর এই এলাকার ৫০ শতাংশ জমি বোরো চাষের আওতায় আসবে, পানি নিষ্কাশনের জন্য যদি আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় পাওয়া যেতো তাহলে অধিকাংশ জমি চাষাবাদের আওতায় আসতো।খর্নিয়া ব্রিজের নিম্নে ইতিমধ্যে তেলিগাতী-ঘ্যাংরাইল নদীর উপর ক্রসবাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে, কিন্তু পলি মৌসুমে বাঁধ দিলে দ্রুত ক্রসবাঁধের নিম্নে পলি জমে নদী ভরাট হবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা ক্রসবাঁধের নিম্নে কুলবাড়িয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত ৫কিমি. নদী খনন করা হবে, এতে কুলবাড়িয়ার নিম্নে ঘ্যাংরাইল নদীও ভরাট হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে আশংকা প্রকাশ করা হয়। একারনে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরীক্ষিত পদ্ধতি হলো টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতি। অথচ কতর্ৃপক্ষ টিআরএম বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে বারবার নদী খননের ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল ও দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং নিম্ন অববাহিকার নদ-নদীগুলো দ্রুত মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। এতে বড় বড় নদী খালে পরিণত হচ্ছে, নদীর কোন প্লাবনভূমি থাকছে না এবং তীরবর্তী এলাকা দ্রুত বিভিন্ন মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। বিশাল এলাকা পাম্প আউটের মাধ্যমেও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতার কারনে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে এবং মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস আপারভদ্রা অববাহিকার বুড়–লী ও পাথরা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে ওই অববাহিকার জনগণও এ দুটি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত আছে জানিয়ে অবিলম্বে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি ভবদহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোতালেব হোসেন, পানি কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক হাশেম আলী ফকির, ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি শেখ সেলিম আখতার স্বপন, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের কো-অর্ডিনেটর দিলিপ সানা।

এ ছাড়াও আপারভদ্রা অববাহিকার ভুক্তভোগী জনসাধারণে ছাড়াও সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।